
ইকো-সোশ্যাল ডেভলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর বাস্তবায়নে এবং সাসটেইনেবল এগ্রিকালচার ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (এসএএফ-বি)-এর সহযোগিতায় নিউট্রিশন ইন সিটি ইকোসিস্টেমস (নাইস) প্রকল্পের আয়োজনে বৃহস্পতিবার রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
২০২১ সাল থেকে নাইস প্রকল্প রংপুর সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিদ্যালয়ের সাথে সমন্বয় করে শহরাঞ্চলে টেকসই খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, খাদ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের চেইন শক্তিশালীকরণে কাজ করে যাচ্ছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে শহরবাসীর মাঝে পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও কমিউনিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস প্রচার করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ১০টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. শাহিন সুলতানা, সিভিল সার্জন, রংপুর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. লোকমান হোসেন, নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা, রংপুর, মো. এনায়েত হোসেন, জেলা শিক্ষা অফিসার, রংপুর, জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের থেরিওজেনোলজিস্ট মো. জোবাইদুল কবীর, এবং মেট্রোপলিটন কৃষি অফিসের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা পরিমল চন্দ্র।
স্বাগত বক্তব্যে নাইস প্রকল্পের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর সোহেল আহমেদ বলেন, “শিশু ও কিশোরদের মধ্যে পুষ্টিকর খাদ্যের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে এই ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে স্কুল পর্যায়ের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।”
শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বাবু খা উচ্চ বিদ্যালয়ের নিউট্রিশন ক্লাবের শিক্ষার্থী মুনজারিন ইদিনা বলেন, “স্কুল ক্যান্টিনে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবারের প্রচলন আমাদের সবার জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।”
অন্যদিকে নিসবেতগঞ্জ জরিমুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম খলিল বলেন,
“অনেক সময় বাড়ি থেকে খেয়ে আসা সম্ভব হয় না, কিন্তু এখন ক্যান্টিনে সহজেই পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাবার পাওয়া যাচ্ছে।”
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রধান অতিথি ও আমন্ত্রিত অতিথিরা চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পুষ্টিকর রেসিপি প্রদর্শনী এবং সেরা ক্যান্টিন ব্যবস্থাপনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ফজলুল হক, এবং সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন নাইস প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর প্রত্যয় চ্যাটার্জী।