
ঢাকার আশুলিয়ায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কুখ্যাত সন্ত্রাসী ইমন ওরফে “চাক্কু ইমন” এখনো পলাতক থাকায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী।
সম্প্রতি অ্যাম্বুলেন্স চালককে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তার জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও এখনো তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আশুলিয়ার ছয়তলা রূপায়ণ সিটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্রের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে ইমন। তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত তাইজুল, মিনারা ও আরও কয়েকজন মিলে এলাকায় কিশোর গ্যাং পরিচালনা, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও ফিটিং চক্রসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, আশুলিয়ায় ঘটে যাওয়া প্রায় প্রতিটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গেই কোনো না কোনোভাবে জড়িত থাকে এই চক্রের সদস্যরা, আর তাদের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত ইমন। তার বিরুদ্ধে এলাকায় বহু অভিযোগ থাকলেও প্রভাব ও ভয়ের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে অ্যাম্বুলেন্স চালক সুজনের ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার ঘটনায়ও সামনে আসে এই চক্রের নাম। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ইমন, তাইজুল ও মিনারা সহ তাদের আরেক সহযোগী দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সুজনের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে তার হাত ও মাথায় গুরুতর জখম হয়।
সুজনকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে আরেকজন ব্যক্তিকেও হামলাকারীরা কুপিয়ে আহত করে। পরে এলাকাবাসী সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে এসে তাইজুল ও মিনারাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের গ্রেফতার করে। তবে হামলার মূল হোতা ইমন ও তার আরেক সহযোগী পালিয়ে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পলাতক অবস্থায় থেকেও ইমন বিভিন্নভাবে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসীকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে, যাতে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ না খোলে বা প্রশাসনের কাছে তথ্য না দেয়।
স্থানীয়দের মতে, তাইজুল ও মিনারাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ইমনকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি বড় অপরাধ চক্রের তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে এবং তাদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও মিলতে পারে।
এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ দ্রুত পলাতক সন্ত্রাসী ইমন ওরফে চাক্কু ইমনকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, তাকে দ্রুত গ্রেফতার করা না হলে এলাকায় আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে যেতে পারে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।
এলাকাবাসী প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে আশুলিয়া ও রূপায়ণ সিটি এলাকায় স্থায়ীভাবে শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা যায়।