আশুলিয়ার জামগড়া পুলিশ ফাঁড়ি নিয়ে বাড়ছে অভিযোগ; ক্ষমতার অপব্যবহার, ভয়ভীতি ও উৎকোচ বাণিজ্যের কেন্দ্রে – এসআই রাশেদ প্রকাশিত: ১০:১৬ অপরাহ্ণ, মে ১৯, ২০২৬ নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া পুলিশ ফাঁড়িকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ, আতঙ্ক ও অসন্তোষ। ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রাশেদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অভিযোগকারীদের হয়রানি, জোরপূর্বক আপস-মীমাংসা এবং উৎকোচ গ্রহণের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠছে। স্থানীয়দের দাবি, জামগড়া পুলিশ ফাঁড়ি প্রতিষ্ঠার সময় এলাকাবাসীর প্রত্যাশা ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। কিন্তু বাস্তবে অনেকের কাছেই এটি এখন আতঙ্কের জায়গায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জামগড়া পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে অনানুষ্ঠানিক শালিশ বসানো হয়। সেখানে অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত উভয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হয়। একাধিক ভুক্তভোগী দাবি করেছেন, কোনো ব্যক্তি প্রতিবাদ বা বিরোধিতা করলে তাকে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। এমনকি অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। সম্প্রতি এক নারী পোশাক শ্রমিককে মারধরের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ওই ঘটনায় আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর তদন্তের পরিবর্তে অভিযুক্তদের সঙ্গে গোপনে সমঝোতার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ওই নারীকে জামগড়া পুলিশ ফাঁড়িতে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিচার সালিশের নামে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। স্থানীয়দের দাবি, এ ঘটনায় ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রাশেদ সরাসরি জড়িত ছিলেন। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “যেখানে মানুষ ন্যায়বিচারের আশায় যায়, সেখানে উল্টো ভয়ভীতি আর অপমানের শিকার হতে হচ্ছে।” জামগড়া পুলিশ ফাঁড়িকে ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়। অভিযোগ রয়েছে, এসআই রাশেদের ঘনিষ্ঠ একটি সোর্স চক্র বিভিন্ন ব্যক্তিকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে থাকে। এমনই এক ঘটনায় হৃদয় নামের এক দিনমজুরকে ২ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন এসআই আব্দুল কুদ্দুস। স্থানীয় বাসিন্দা ও পেশায় নৈশপ্রহরী আবুল কালাম কাজীর দাবি, পরিচয়ের সূত্রে তিনি হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা না দিলে হৃদয়কে জেলে পাঠানো এবং আবুল কালাম কাজীকেও গ্রেফতারের ভয় দেখানো হয়। পরে ধারদেনা করে প্রথমে ১০ হাজার টাকা এবং পরে আরও ৫ হাজার টাকা দেওয়ার পর হৃদয়কে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তারা। আবুল কালাম কাজীর অভিযোগ, বাকি টাকা দিতে দেরি হওয়ায় এসআই আব্দুল কুদ্দুস ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। স্থানীয়দের দাবি, এসআই রাশেদের ছত্রছায়াতেই এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। একাধিক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, থানায় বা পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্ত পক্ষের কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণ করে অভিযোগকারীদের ওপর আপস-মীমাংসার চাপ সৃষ্টি করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, “আমরা বিচার চাইতে গিয়েছিলাম, কিন্তু উল্টো আমাদেরই অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ফাঁড়িতে ডেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মীমাংসা করতে বাধ্য করা হয়।” স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এসআই রাশেদকে ঘিরে এসব অভিযোগ নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশ পেলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গুঞ্জন রয়েছে, অবৈধভাবে আদায় করা উৎকোচের একটি অংশ প্রভাবশালী মহল ও ঊর্ধ্বতন পর্যায়েও পৌঁছে দেওয়া হয়। যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো পুলিশ সদস্য দায়িত্বের অপব্যবহার করে ঘুষ গ্রহণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অভিযোগ তুলে নিতে চাপ প্রয়োগ বা অবৈধভাবে আপস-মীমাংসা করালে তা ফৌজদারি অপরাধের পাশাপাশি বিভাগীয় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাময়িক বরখাস্ত, চাকরিচ্যুতি, এমনকি দুর্নীতি দমন কমিশনের আওতায় তদন্ত ও মামলা হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের দাবি, জামগড়া পুলিশ ফাঁড়ির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশি হয়রানি, ভয়ভীতি ও অনিয়ম বন্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। Download News PhotoCard (1080×1080) SHARES সারা বাংলা বিষয়: